অজুর নিয়ম
অজু হলো নামাজের আগের পবিত্রতা। এর ফরজগুলো কুরআনে (৫:৬) আছে, আর নবী ﷺ-এর পদ্ধতি সাহাবিরা বর্ণনা করেছেন।
অজু কেন জরুরি
- কুরআন ৫:৬ হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাজের জন্য দাঁড়াও, তখন তোমাদের মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত ধোও, মাথা মাসাহ করো, এবং টাখনু পর্যন্ত পা।
- সহিহ বুখারি ১৩৫, সহিহ মুসলিম ২২৫ যার অজু ভেঙে যায়, সে আবার অজু না করা পর্যন্ত আল্লাহ তার নামাজ কবুল করেন না।
- সহিহ বুখারি ১ সকল কাজ নিয়তের উপর নির্ভরশীল।
ধাপসমূহ (সুন্নি মাযহাব)
- মনে নিয়ত করুন এবং বিসমিল্লাহ বলুন।
- দুই হাত কবজি পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিন।
- তিনবার কুলি করুন।
- তিনবার নাকে পানি দিয়ে পরিষ্কার করুন।
- মুখমণ্ডল কপালের চুল থেকে থুতনি পর্যন্ত এবং এক কান থেকে অন্য কান পর্যন্ত তিনবার ধুয়ে নিন।
- ডান হাত কনুইসহ তিনবার ধুয়ে নিন, তারপর বাম হাত।
- ভেজা হাতে মাথা মাসাহ করুন, তারপর কান।
- ডান পা টাখনুসহ তিনবার ধুয়ে নিন, তারপর বাম পা, আঙুলের ফাঁকেও।
হযরত উসমান ইবনে আফফান নবী ﷺ-এর অজু এভাবে করে দেখিয়েছেন: সহিহ বুখারি ১৫৯, সহিহ মুসলিম ২২৬। পা ধোয়া: “গোড়ালিগুলোর জন্য আগুনের দুর্ভোগ” (সহিহ বুখারি ৬০, সহিহ মুসলিম ২৪১)।
জাফরি অজু
- নিয়ত, তারপর মুখমণ্ডল কপালের চুল থেকে থুতনি পর্যন্ত উপর থেকে নিচে ধুয়ে নিন।
- ডান হাত কনুই থেকে আঙুলের ডগা পর্যন্ত ধুয়ে নিন, তারপর বাম হাত।
- ডান হাতে থাকা ভেজা দিয়ে মাথার সামনের অংশ মাসাহ করুন।
- হাতের অবশিষ্ট ভেজা দিয়ে ডান পায়ের উপরিভাগ আঙুল থেকে টাখনু পর্যন্ত মাসাহ করুন, তারপর বাম পা।
কুরআন ৫:৬ পা মাসাহ হিসেবে পড়া হয়। ইমাম বাকির নবী ﷺ-এর অজু করে দেখান এবং হাতের অবশিষ্ট ভেজা দিয়ে মাথা ও পা মাসাহ করেন: আল-কাফি, খণ্ড ৩, কিতাবুত তাহারাত, অজুর বিবরণ এবং মাথা ও পা মাসাহের অধ্যায়।
মাযহাবের পার্থক্য
নিয়ত
শাফেয়ি, মালেকি, হাম্বলি ও জাফরি মাযহাবে অজু শুদ্ধ হওয়ার শর্ত; হানাফি মাযহাবে সুন্নত।
মাথা মাসাহ
হানাফি: অন্তত মাথার এক-চতুর্থাংশ (নবী ﷺ কপালের চুলে মাসাহ করেছেন, সহিহ মুসলিম ২৭৪)। শাফেয়ি: মাথার যেকোনো অংশ। মালেকি ও হাম্বলি: পুরো মাথা (সহিহ বুখারি ১৮৫, সহিহ মুসলিম ২৩৫)। জাফরি: মাথার সামনের কিছু অংশ।
পা
সুন্নি মাযহাব পা ধোয়; জাফরি মাযহাব মাসাহ করে।
ক্রম ও ধারাবাহিকতা
শাফেয়ি, হাম্বলি ও জাফরি: কুরআন ৫:৬-এর ক্রম জরুরি। মালেকি, হাম্বলি ও জাফরি: অঙ্গগুলো দীর্ঘ বিরতি ছাড়া পরপর ধুতে হবে। হানাফি: দুটোই সুন্নত।
অজু কিসে ভাঙে
সব মাযহাবে: প্রস্রাব-পায়খানা, বায়ু নির্গত হওয়া, গভীর ঘুম ও জ্ঞান হারানো (কুরআন ৫:৬; সহিহ বুখারি ১৩৫)। রক্ত বের হওয়া, বমি ও বিপরীত লিঙ্গকে স্পর্শ করা নিয়ে মাযহাবে মতভেদ আছে, তাই নিজের মাযহাব অনুসরণ করুন।
সর্বশেষ হালনাগাদ: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬